পেকুয়া প্রতিনিধি:
“পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. কাওসারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এস.এম. নুরুল আখতার নিলয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাহমিদুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উম্মে কুলসুমা খানম, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মাহাবুবুল আলম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবু জার সোহাগ, পেকুয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সুনয়ন বড়ুয়া এবং একলাব এনজিওর প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ, মেধাবী ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের বিকল্প নেই। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অপুষ্টি শুধু ব্যক্তির শারীরিক বিকাশই ব্যাহত করে না, এটি জাতীয় উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—মাতৃত্বকালীন ও শিশুপুষ্টি বিষয়ে কাউন্সেলিং, পুষ্টি মেলা, পুষ্টি অলিম্পিয়াড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম এবং প্রবীণদের অংশগ্রহণে পুষ্টি বিষয়ক আলোচনা সভা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। তাই খাদ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, দুধ ও প্রাণিজ আমিষ খাদ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অপুষ্টি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কৃষি, স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জাতীয়ভাবে পালিত এই পুষ্টি সপ্তাহের মূল লক্ষ্য হলো—পুষ্টি বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি বৈষম্য হ্রাস এবং সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সমন্বয়ে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
